১০। অন্য মেয়ে......।।

অশোক সেদিন যাচ্ছিল বড় রাস্তার মাছের দোকানের সামনে দিয়ে । এই জায়গাটা তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূর । যেতে যেতে তার মনে পড়ল , জোনাকি  একদিন  তাকে বলেছিল , আমার জন্মদিনে তুমি আমাকে মাছের বাচ্ছা কিনে দেবে ? এখন আমার কাছে মাত্র তিনটে আছে ।
জন্মদিনে উপহার দেওয়া হয় সে কি উপহারটাকে মনে রাখার জন্য না যে দিচ্ছে তাকে মনে রাখার জন্য অশোক জানে না । তার জন্মদিনে সে বাড়ির জন্য অনেক ভাল ভাল কেক আইস্ক্রীম ইত্যাদি কিনে আনে । তাপু মাছ মাংস রান্না করে । তার নামে মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে আসে । মিটিং টিটিং না থাকলে বউ মেয়েকে নিয়ে রাত্রে সে কোন একটা ভাল দোকানে গিয়ে চাইনীজ বা যা হোক কিছু খেয়ে বাড়ি ফেরে । দিদি মোবাইলে কথা বলে । শুভেচ্ছা জানায় । দু একবার হলেও জন্মদিনে তাপু তাকে টিশার্ট কিনে এনে দিয়েছে । জোনাকির কথা বলার ধরনে প্রথমে সে বেশ অবাক হয়েছিল । নিজের জন্মদিনে নিজেই কেউ উপহার চায় সে এই প্রথম জানল । উপহারের ধরন শুনে সে অবশ্য হেসে ফেলেছিল ।  জিজ্ঞাসা করেছিল , কবে তোমার জন্মদিন ?
জোনাকি বলেছিল - অনেকদিন পরে ।
এখন মাছের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার একথা মনে পড়াতে সে বাইক থামিয়ে দাঁড়ালমনে পড়ল জোনাকি কয়েকদিন বাড়ি ছিল না । তার সঙ্গে শেষ দেখা  জঙ্গলে যাওয়ার দিন । ফিরে এসে সে পরদিনই ফোন করে জোনাকি কেমন আছে জেনে নিয়েছিল ; তারপর দু দিন আর তাদের কথা হয় নি । দুটো দিন মানে একলক্ষ বাহাত্তর হাজার আটশ সেকেন্ড। প্রতিটা মুহুর্তে সে ভাবে আর সে নিজে থেকে জোনাকিকে ফোন করবে না । নিজের ওপর তার নিয়ন্ত্র নেই যতই সে একথা ভাবছে ততই ছোট হয়ে যাচ্ছে ; কুঁকড়ে যাচ্ছে মনে মনে । অথচ কথা বলার জন্য প্রবল এক ইচ্ছা তাকে সামনে ঠেলে দিচ্ছে মাছের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সে মোবাইলটা পকেট থেকে বার করে এস এম এস লিখল , তোমার পোষা মাছেরা তিনদিন কি খেয়েছিল ?
পরদিন একটু বেলার দিকে জোনাকি ফোন করল তাকে । বলল - তোমার চার্য ফুরিয়ে গেছে ।
বুঝতে পারলনা অশোক । উলটে প্রশ্ন করল - না না , আমার ফোনে যথেষ্ট চার্য রয়েছে । কেন পরিষ্কার কথা শুনতে পাচ্ছনা ?
-      আমার মাছেরা তিনদিন জল খেয়েছিল । জল খেয়েই ওরা এত্ত মোটা হয়ে গেছেসবকটার পেট উঁচু । আমি ভাবি প্রেগন্যান্ট , বাচ্ছা হবে । কিন্তু ওসব কিচ্ছু না ।
এবারে বুঝতে পারে অশোক । বোকার মত হাসে । - মাছের দোকানের সামনে সন্ধ্যেবেলা রাস্তা পার হচ্ছিলাম , তুমি জন্মদিনে মাছ উপহার চেয়েছিলে সেটা মনে পড়ে গিয়েছিল
জোনাকির সঙ্গে এই সরল বন্ধুত্বটা নষ্ট হয়ে গেলে তখন বেঁচে থাকার ধরনটা কেমন হবে এমন একটা চিন্তা তার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে ।
- তখন মাছ চেয়েছিলাম । এখন আর চাইছিনা , কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি ।
- কেন ?
জোনাকি জোর দিয়ে বলে , সে সব তোমাকে বলছিনা । বলছি এবার তোমার রিচার্য দরকার ।
- কেন এস এম এস ভাল হয় নি ?
- তুমি বলেছো তুমি উপন্যাস লিখবে । শুরু করেছো ?
- এবার করব ।
- পারবে না । সে তোমার কম্ম নয় । তোমাকে হতাশা গ্রাস করেছে ।
অশোক চুপ করে শোনে কোন কথা বলে না জোনাকি ওপাশ থেকে বলে - যখন তুমি লিখছ , তখন লিখছ । কিন্তু যখন লিখছনা তখন সত্যি তুমি লিখছনা ।
- কি করব তাহলে ?
- মদ খাও । গার্ল ফ্রেন্ড বানাও । কিন্তু প্লিজ এইরকম হতাশ হয়ে এস এম এস লিখোনা মাছেরা তিন দিন কি খেয়েছে ?
- আমি মদ খাই না । মেয়েদের সঙ্গে অত ভাল মিশতে পারি না ।
- এ কথাটা সত্যি বললে না । ডাহা মিথ্যে , অবশ্য সে যোগ্যতাও তোমার নেই !
- মিথ্যে বলতে কি কি যোগ্যতা দরকার ?
- সে সব বুঝতে মেন্টালিটি লাগে । তোমার ওটা নেই বলেই জোনাকি একটু থমকায় । দু সেকেন্ড পর আবার প্রশ্ন করে - তুমি কেমন আছো ? সব কিছু নিয়ে ?
- সবকিছু মানে ?
- মানে তোমার না লেখা উপন্যাস নিয়ে ।
পরিষ্কার বলে ফেলে অশোক - কিচ্ছু ভাল লাগছে না । কনসেন্ট্রেট করতে পারছি না ।
-  ঐ জন্যই তো বলছি তোমার রিচার্য দরকার । এত মন খারাপের মধ্যে ডুবে থাকলে এইরকমই হবে । এমনকি আর কিছুদিন পরে আমাকে তোমার ফোন করতেও ইচ্ছা করবে না ।
- এরকম হয় ?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে জোনাকি বলে - হয়ই তো । তুমি জানতি পারতিছ না ছাহেব !
হেসে ফেলে অশোক । -আজ রাতে বাড়ি ফিরেই লিখতে বসব । দেখে নিও ।
- তুমি লিখলে আমার কি ? আমি কোন দিন ওসব পড়তেও যাব না।
- আমি এমনি এমনি লিখব ।
- এমনি এমনি খাইএর মত ? তাহলে আমি অন্য মেয়ে হয়ে যাই ।
- না না । অন্য মেয়ে কেন হবে ? যা আছো তাই থাকো ।
অশোক ভাবে অন্য মেয়ে মানে কি ? সুনীল গাঙ্গুলী যাকে বলেছেন , দূরদেশিনী / বুক দেখেছি , পিঠ দেখেছি ,মুখ দেখিনি ? নাকি জীবনানন্দ দাশের মিশরের মানসী  ? ... পুরুষ আর প্রকৃতির লীলা ? সহজিয়া বাউলদের মত গুহ্য রতি সাধনা ? যে সাধনায় কালিদাস লেখেন কুমার সম্ভব বা অন্য এক সাধনায় মেঘদূত ? এই কাব্য রচনার পেছনে অবশ্যই নারী রয়েছেন । সে বাস্তবের সংসারের নারী নয় । সংসার সমুদ্র থেকে বেরিয়ে যেতে হয় যমুনার তীরে । সেখানেই থাকে প্রেম । প্রেমের নারী কি অন্য নারী ? অন্য মানেই তো অপরত্ব । অশোক ভাবে যে নারীর সাথে প্রেম হয় সে অন্য নারী কিভাবে হতে পারে ? যমুনা তীরের নারীর ঘর নেই । গাছতলাই ঘর । এ গলি থেকে সে গলি শ্যাম শ্যাম বলে উন্মাদের মত ছুটে বেড়ায় , কখনও যমুনা তীরে গালে হাত বসে ... । প্রেম তাকে প্রেমাস্পদ থেকে পৃথক করে দেয় ? তার মনে পড়ল অনেকদিন আগের কথা ।
সে তখন সবে এখানে চাকরী নিয়ে এসেছে এক বছরের ট্রেনিং শেষ । নঘড়ার প্রদীপ থাকত তার সঙ্গে একই মেসে । সঞ্জয় দত্তের বোলচাল নকল করত । একদিন বলল - চল , আজ একসঙ্গে বাড়ি যাব । দুপুরের দিকে একটা ট্রেন ছিল তখন কলকাতা যাওয়ার , সেইটা ধরলে বিকেলের মধ্যে শেয়ালদা । পথে খুব বেশি স্টপেজ দিত না এবারে ট্রেনিং শেষে চারদিন ছুটি , শেয়ালদায় নেমেই প্রদীপ বলল ,বাড়ি যাব না । আর এক জায়গায় যাব ,অন্য মেয়ে !
শুনে বোকার মত প্রশ্ন করেছিল অশোক - অন্য মেয়ে মানে ?
-      মানে খুব সোজা , মানে ঐ সব মেয়ে , ঐ যারা সেজেগুজে থাকে । যাবি ?
চুপ করে থাকে অশোক ।
প্রদীপ বলে ,-তুই তো মেয়েদের দিকে চোখ তুলে তাকাতেই পারিস না , মেয়েদের তুই কি বুঝবি ? সাহস আছে ? থাকলে চল !
- কোথায় ?
- চলনা ! তুই নাকি লিখবি ? লেখক হবি ? তা কি নিয়ে লিখবি ? আমি অফিস যাই , বউ রান্না করে ... ইঃ ন্না ন্না ! মতি রান্না করে । মতি ঘর মোছে । বাজার করে ,আমি অফিস থেকে ফিরি , তাস খেলি । কোনদিন টেবিল টেনিস
- শাস্ত্রবিরোধী। রমানাথ রায় ।
- কে ? কে রায় ?
 - বউ রান্না করে আমি অফিস যাই , এটা একটা গল্প ।
- সেটাও যখন লেখা হয়ে গেছে তাহলে তোকে আর কিছু লিখতে হবে না । যা অফিস কর আর ঘুমা !
অশোক গিয়েছিল । হাওড়া থেকে আগত বাসে চেপে লিবার্টি সিনেমার আশেপাশে কোথাও তারপর গলি , তস্য গলি পেরিয়ে বহু পুরনো এক পাড়া । রঙ মাখা মুখ , ব্লাউজ পেটিকোট , অল্প কিছু সালোয়ার কামিজ , উন্নত টিশার্ট , হাই হিল , গোলাপি সবুজ কমলা ঠোঁট , প্রদীপের উপদেশ মত কারো দিকে বেশি না তাকানো । একটু গম্ভীর স্মার্ট আর ভারিক্কি চাল । প্রদীপ তাকে নিয়ে গিয়ে তুলল এক বনেদী বাড়ির তিনতলায় বড় বড় জানলা , প্রায় দে মানুষ সমান লম্বা সবুজ রঙ করা দেওয়ালে খড়খড়ি দেওয়া । উঁচু সিলিং । কড়ি বরগার ছাদ । তবে পরিবেশ একদম ঘরোয়া । একএকটা ঘরে বোধহয় অনায়াসে টেবিল টেনিস খেলা যাবে । সেই রকমই একটা ঘরে একদিকে স্টোভে এক মোটা মহিলা উবু হয়ে বসে রান্না করছিল । সামনে মেঝেয় একজন পুরুষ মাদুর বিছিয়ে বসে একটা বাচ্ছা ছেলেকে নামতা মুখস্থ করাচ্ছে অন্য একটা ছেলে কাছেই উঁচু বিছানায় বসে আপন মনে নিজের পড়া করছে । তাদের আসতে দেখে মোটা মহিলাই প্রথম উঠে এল ।
প্রদীপ বলল - দিদি অনেকদিন পর এলাম ভাল আছো ?
- ও মা ! কি সৌভাগ্যি ? এ কে গো ?
- এ আমার বন্ধু । এর নাম অশোক
তাদের দুজনের কাছে দুটো ব্যাগ , জামা কাপড় ছাড়াও তাতে টাকা কড়ি , কিছু দরকারী কাগজপত্র , বাড়ির জন্য একটা ভাল দেওয়াল ঘড়ি আর এক প্যাকেট সন্দেশ রাখা আছে । অশোক ভয় পাচ্ছিল যদি কেড়ে নেয় । প্রদীপ তাদের দুজনের ব্যাগ দুটো নিয়ে দেওয়ালের পাশে ছোট টুলটার ওপর নামিয়ে রাখল । তারপর উঁচু বিছানাটা দেখিয়ে অশোক কে বলল , আয় বোস এখানে ।
          তার আচরনই বলে দেয় সে এখানে নিয়মিত আসে ।
অশোক জড়োসড়ো হয়ে একপাশে কোনক্রমে বসে -কি রে ভয় পাচ্ছিস নাকি ? আরে আরাম করে বোসএটা পৃথিবীর সবচেয়ে সেফ জায়গা । প্রদীপের ব্যবহারে কোন জড়তা নেই । পুরুষটাকে প্রদীপ বলল , জামাই এই আমার বন্ধু ।
জামাই আদর করে বলল , আরাম করে বোস ।
অশোক ভাবল , তারা তো বসেই আছে , এই তো একটা মাত্র খাট । এদের বাকি আসবাব যে এই খাটের নীচেই রাখা সে বুঝতে পারে ।
বিছানায় যে ছেলেটা বসে নিজের পড়া করছিল জামাই তাকে বলল , ফুটে সরে বোস ।
প্রদীপের দিদি সেই মোটা মহিলা কন্ঠে খানিক উৎকন্ঠা ঢেলে তাদের বলল , পা তুলে বসুন গো ! তাতে আরাম হবে ।
ঘরের দেওয়ালে রেখা অমিতাভের বড় পোস্টার লাগানো রয়েছে । সিলিং এ একটা পুরনো আমলের ভারী ফ্যান শব্দ করে ঘুরছে । মহিলার কথামত তারা বিছানায় পা তুলে আরাম করে বসল । বিছানায় চাদরের ওপরে কিছু ট্যাবলেটের স্ট্রীপ পড়েছিল । অশোক দেখতে পেল স্ট্রীপের গায়ে লেখা ডেকসামিথেসোন । ওরাডেকসন্ । কোন কারণ ছাড়া সে মহিলাটিকে জিজ্ঞাসা করল - কারো শরীর খারাপ ?
মহিলাটি অল্প হাসল । -না গো জামাই, ওগুলো আমার মেয়েদের ওষুধ । রোগা রোগা মেয়ে সব এত ধকল সইতে পারবে কেন ? তাই এসব খেতে হয় , বলতে বলতে ওষুধগুলো হাতে করে উঠিয়ে নেয় । অশোক পরে নিছক কৌতুহলে খবর নেয় ওগুলো কিসের ওষুধ । এমনকি সে ঐ ওষুধ নিয়ে নানান সংবাদ সংস্থার রিপোর্টও দেখেছে । ওগুলো আসলে স্টেরয়েড । গরুদের মোটা তাজা করতে ব্যবহার হয় । এগুলো খেলে সারাক্ষণ খিদে পায় । অতিরিক্ত খাবার খেয়ে মেয়েগুলো মোটাসোটা , দেখতে বেশ লাগে । গায়ে গতরে মাংস না থাকলে খদ্দের পছন্দ করবে কেন ? আবার অন্য একটা সুবিধেও আছে । ভারী চেহারা হওয়ার জন্য নাবালিকা নয় বলে পুলিশের হাত থেকেও রেহাই মেলে ।
ওষুধ হাতে নিয়ে মহিলাট দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল আর তখনই অশোক নজর করল দরজার পাশে এদিকের দেওয়াল ঘেঁষে ছোট একটা টেবিলের ওপর অ্যাকোরিয়াম রাখা । গোটা তিনেক মাছ জলে খেলে বেড়াচ্ছে । যদিও সেগুলো কি জাতের মাছ তার জানা নেই । অশোক খানিকটা অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়েছিল , ঠিক তখনই তিনটে মেয়ে দরজা দিয়ে এ ঘরে এসে ঢুকল । তাদের হাতে কাঁচের চুড়ি , পায়ে নূপুর । নূপুরের শব্দে সে মেয়ে তিনটেকেই দেখে প্রশ্ন করে বসল , এইসব মাছেরা কি খায় ?
শুনে তিনটে মেয়েই হেসে এ ওর গায়ে ঢলে পড়ল । তীব্র রিনিরিনে তাদের হাসি । অশোক ভাবল সে কি কিছু ভুল কথা বলে ফেলেছে ? তিনজনের মুখই সে খুঁটিয়ে দেখে । প্রত্যেকের চোখে মুখে সরল হাসিযদিও মেয়েগুলো সেজেছে খুব । ভাল একটা গন্ধও আসছে । টান টান করে বাঁধা চুল । অশোক ভাবে এরাই কি তবে প্রদীপের অন্য মেয়ে ? মানে নষ্ট মেয়ে ? কৈ দেখেতো সেরক মনে হচ্ছে না ?
তার প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আগে প্রদীপ বলল - তুই কি করবি ?
সঙ্গে সঙ্গে জামাই বলল - দেখুন কাকে আপনার পছন্দ !
অশোক পছন্দের মেয়েটাকে চিহ্ণিত করতে পারল না । সে চুপ করেই রইল । হতে পারে এই মুহর্তে সে শারিরিক ঘনিষ্ঠতাকে ভয় পাচ্ছে । কিংবা অজানা কোন রোগের ভয় ! নিজেকে পবিত্র রাখার মানে সে জানে কিন্তু পবিত্রতা সন্মন্ধে কোন নির্দিষ্ট ধারনা তার নেই । অন্ধকারে কি পবিত্রতা থাকেনা ? নাকি যা কিছু আলোময় তাইই পবিত্র ।
নূপুর পরা একটা মেয়েকে প্রদীপ পছন্দ করল । সঙ্গে সঙ্গে অন্য দুটো মেয়ে ঘর থেকে চলে গেল ।
জামাই বলল - বিয়ার খাবেন ?
প্রদীপ বলল - রাম নেই?
সঙ্গে সঙ্গে মহিলাটি প্রদীপকে বলে উঠল - বিয়ার খান কিন্তু রাম খেয়ে কাজ করবেন না !
জামাই ওদের দুজনকেই বিয়ার এনে দিল প্রদীপ মেয়েটাকে নিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল । বিছানার ওপরে বসে মাছেদের খেলা দেখতে দেখতে অশোক একাই খেল দে বোতল  বিয়ার । বাচ্ছা ছেলেটা তখনও সেখানেই বসে নিজের খাতায় কিসব লেখালেখি করছিল । অশোকের অস্বিত্বই স্বীকার করেনি সে । বালিশে হেলান দিয়ে একা একাই বসে থাকে সেবিয়ারের কল্যানে একসময় ঝিমুনিও আসে । জামাই তাকে আর একটা বালিশ মাথার দিকে এগিয়ে দেয় । অশোক দেখে মাছগুলো জলে কি সুন্দর ঘুরে বেড়াচ্ছে । ঘন্টাখানেক বাদ প্রদীপ ফেরে এঘরে । ওর পেছনে সেই মেয়েটা । একটু মঙ্গোলিয়ান ধাঁচের মুখ । হাতে চিরুনি । তাকে দেখে প্রদীপ অল্প হাসে , বলে - খুব ভাল মেয়ে বুঝলি !
অশোক ভাল করে জেগে উঠে মেয়েটার দিকে তাকায় । দেখে মুখে তার লাজুক হাসি । সে মেয়েটাকে জিজ্ঞাসা করে - কি নাম তোমার ?
মেয়েটা উত্তর দেয় - নিকি ।

আর একবার দেখে অশোক মেয়েটার মুখ । হাসিটা সকালের রোদ্দুরের মত । নষ্ট হয়ে যায়নি ।

Comments

Popular posts from this blog