৪। একটা নদী কিছু ছবি ......।।

আজ তারা সকাল সকাল মিশনারিজ অব চ্যারিটিতে চলে এসেছে । সন্ধ্যের আগেই । দুর্গার জন্য একটা খেলনা গাড়ি কিনে এনেছে । বড় হলঘরটায় ঢোকার পরই জোর বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল । এখানে জানলাগুলো সব বন্ধ । ছোট বাচ্ছাগুলো মেঝেয় খেলছে । কয়েকটা বল ছড়িয়ে ছিটিয়ে , একটা বড় টেডি । সে সব ছেড়ে  সবকটা বাচ্ছা খেলনা গাড়িটার ওপরেই হামলে পড়ল ।
রেবা নামের আয়াটা তাদের বলল - বৌদি তোমরা ভালো আছো ?
সঙ্গে সঙ্গে জোনাকি অশোকের হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলল - কি গো কি জিজ্ঞেস করছে , বলে দাও । বলেই সে রেবাকে হাল্কা ধমক দিয়ে বলে , দাদার হাত ধরে আছি বলেই কি বৌদি বলতে হবে ? দিদি বল । ’
ঘটনাটা অশোক অনুভব করতে চেষ্টা করে । সে ঠোঁট বন্ধ করে একটা গভীর শ্বাস নেয় । বাচ্ছারা খেলনা নিয়ে লড়ে যাচ্ছে । একটা অনেষ্ট চিন্তাকে সে শূণ্যতা থেকে আকার দিতে চেষ্টা করে । কিন্তু সেই প্রয়াসকে বাধা দেয় জোনাকির নরম করতল । কোন পূর্বাপর ঈঙ্গিত ছাড়াই একজন স্বল্প পরিচিতা তার হাত ধরেছে । এর মধ্যে কি কোন অস্বাভাবিকতা নেই ? একে কি গায়ে পড়ে ঘনিষ্ঠতা বলে না ? ট্রেনে বাসে যে কোন মহিলা যদি হঠাৎ তার হাত ধরে , প্রথম অনুভূতি তার হবে দারুণ বিস্ময়ের । চোর পকেটমার বা পাগলি বলেই ধরে নেবে সে । অশোক জোনাকির দিকে চোখ তুলে চাইতে পারে না । সর্বাঙ্গে একটা অবশ হিম ভাব ।
রেবা নামের কম বয়সী আয়াটি অশোককে মন দিয়ে লক্ষ্য করে একটু তারপর জোনাকিকে বলে - তোমাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখতে খুব ভালো লাগে বৌদি , কোথায় বাড়ি তোমাদের ?
দুর্গা খেলনা গাড়িটা কাউকে নিতে দিচ্ছে না । অন্য বাচ্ছাগুলো সেটা নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করে দিয়েছে । ঘরময় একটা হুড়োহুড়ি , অশোক মেঝে থেকে গাড়িটা তুলে নিয়ে দুর্গাকে গাড়ির সুইচটা চিনিয়ে দেয় । অন্য বাচ্ছাদের তুলনায় দুর্গাই একটু বড়বছর ছয়েক বয়স জোনাকি রেবার সঙ্গে গল্প জুড়ে দিয়েছে । বছর দু এক বয়স , ক্রমাগত হাঁচছে আর কাশছে একটা বাচ্ছা , তাকে কোলে তুলে নিয়েছে জোনাকি । রেবাকে জিজ্ঞেস করছে , এই বর্ষাতেও তোমরা এদের মেঝেয় ফেলে রেখে দিয়েছ? আরো ঠান্ডা লেগে যাবে তো ।
-      লাগলে আর কি করব বৌদি ? যমজ দুটো ভুগছে , ১০২ জ্বর । বাচ্ছাদের একজায়গায় ধরে রাখা মুশকিল , জোনাকি হঠাৎ অশোককে ধমকায় , এসেই বসে পড়লে ? দেখছনা দুর্গা জলের দিকে চলে যাচ্ছে ? যাও ধরে নিয়ে এস !
দুর্গার খেলনা গাড়িটা জলের দিকে চলে গেছে । বারান্দা জুড়ে  বৃষ্টির জলের স্রোত । একেবারে একটা ছোটখাটো নদী । থমকে দাঁড়িয়ে দুর্গা জলে ভেজা খেলনাটাকে দেখছে । না কি নদীটাকে দেখছে ? তার চোখে একটা অদ্ভূ জ্যোতি । পাশে দাঁড়িয়ে অশোক জিজ্ঞাসা করে , কত জল দেখেছ দুর্গা ? দুর্গা ডান হাতটা উঁচু করে তর্জনীটা জলের দিকে বাড়িয়ে দেয় । খুশীতে তার চোখ দুটো চকচক করে ওঠে । বলে - জল । নদী ।
-      তুমি নদী দেখেছ দুর্গা ?
দুর্গা হাততালি দেয় । মুখ উঁচু করে অশোকের দিকে তাকিয়ে অনেক কিছু বলার চেষ্টা করে । কিন্তু বোঝা যায় না কিছুই । শুধু শোনা গেল , বু  বু  নদী । আর তার অদ্ভূ আনন্দ । হাঁটু ভাঁজ করে একবার সে নীচু হয় আবার পরক্ষণেই সোজা হয়ে দাঁড়ায় । জোনাকি চোখ কুঁচকে অশোকের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে - ও কি কিছু বলছে ? ও অমনি করছে কেন ?
দৌড়ে আসে দুর্গা জোনাকির কাছে । তারপর তার শাড়ি ধরে টেনে নিয়ে যেতে চায় জলের দিকে । তাকে নিজের কোলে তুলে নিতে চেষ্টা করে জোনাকি কিন্তু দুর্গা কিছুতেই কোলে উঠবে না । মুখে এক কথা । নদী । অসহায়ের মত জোনাকি অশোককে প্রশ্ন করে আবার , ও কি বলছে বুঝতে পারছ না ? নিশ্চই কোন সাংঘাতিক ঘটনা যা নদীর সঙ্গে জড়িত । জোনাকি দুর্গার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় , তার দুচোখে জল টলটল করছে । - কি হয়েছে মা ? কি বলতে চাইছ আমরা কিছু বুঝতে পারছি না , বলেই জোনাকি আবার নিচু হয়ে দুর্গাকে নিজের কোলের কাছে টেনে নিতে যায় । বারান্দার নদীটার মত তার দুচোখে তখন আর একটা নদী ।
অশোক সামান্য এগিয়ে এসে জোনাকির কাঁধে নিজের হাতটা আলতো করে রাখে । বলে - বৃষ্টির জলে বাচ্ছাটার ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে । আর একটু ভেতরে নিয়ে এস ।
বৃষ্টির ছাঁটে ততক্ষণ জোনাকির চুল খানিকটা ভিজে গেছে । তার চুল পিঠের মাঝামাঝি পর্যন্ত । সেই আধভেজা চুলের ওপরে হাত রেখেই অশোক আস্তে করে বলল - সরে এস ।
জোনাকি খেয়ালই করলনা অশোক তার এত কাছে এসে দাঁড়িয়েছে । রেবার দিকে চেয়ে সে তখন রেবাকে জিজ্ঞেস করছে - রেবা, দুর্গা নদী কেন এত ভালবাসে তুমি জান ?
- না বৌদি জানি না । ও তো নদীই দেখেনি ।
- নিশ্চই দেখেছে । ওকে এখানে কবে নিয়ে আসা হয়েছিল জান ?
- সাত আট মাস আগে ।
- বৃষ্টি দেখে ও কি এমনই করে ?
- এর আগে তো এত বৃষ্টি হয় নি বৌদি । ওকে হুল এক্সপ্রেসের একটা কামরায় পাওয়া গিয়েছিল ।
- তবে তো মনে হচ্ছে ও হয়ত কোলকাতার দিকের কোন এক জায়গার
- আমরা অত জানিনা বৌদি । তুমি সিস্টারদিদিকে জিজ্ঞেস করতে পার ।
এরপর বৃষ্টিটা একটু ধরে গেল । খোলা বারান্দার জলের স্রোতও খানিকটা কমে গেল । আর তাকে নদীর মত মনে হচ্ছে না । দুর্গার দুচোখ তখন বড়দের মত উদাস । একরাশ নিস্তব্ধতা সেখানে । আর সে নদীর কথা বলছে না । তারা তিনজনেই বেশ অবাক হয় । কোন বাচ্ছার এইরকম ব্যবহার কেউ তারা এর আগে দেখে নি । জোনাকির দিকে তাকিয়ে আছে অশোক । চুপ করেই আছে কিন্তু তার চোখ দেখলে বোঝাই যায় মনে মনে একটা কিছু সে ভাবছে । তার বাইকের ডিকিতে একটা ড্রয়িং খাতা আর কালার পেন্সিল বক্স রাখা আছে । আজ বিকেলেই ছেলের জন্য ওগুলো কিনেছিল সে । ডিকি থেকে জিনিষগুলো গিয়ে নিয়ে এল সে । তারপর ধরিয়ে দিল দুর্গার হাতে । রেবাকে বলল - এই খাতাটা শুধু ওকেই দিও । পরে আর একদিন এসে বাকিদের খাতা দিয়ে যাব ।
- অন্যগুলো এখনও খাতা ধরতেই শেখেনি দাদা !
- ও ছবি আঁকতে পারে ? শিখেছে ?
- রঙ করতে পারেএই দুর্গা খাতায় রঙ করবি ? এই বলে রেবা নতুন খাতাটার একটা পাতা দুর্গার দিকে খুলে ধরে ।
অশোক ঝুঁকে পড়ে দেখতে থাকে । একটা কালার পেন্সিল বক্স থেকে বের করে এগিয়ে দেয় দুর্গার দিকে । ভ্যাবাচাকা মুখে দুর্গা পেন্সিলটা হাতে নেয় বটে কিন্তু তাকিয়ে থাকে অশোকের চোখের দিকে ।
-      তুমি রঙ করতে পার তো ? দেখি তো কেমন পার ? বসে পড়ে অশোক মেঝের ওপরেই । দুর্গা তবু তার চোখ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয় না । রঙ পেন্সিল্টা কি তারই ? মুহূর্তে অশোক বুঝে নেয় শুধু পেন্সিল হাতে ধরিয়ে দিলেই হবে না , দুর্গাকে বোঝাতে হবে ছবির সাথে রঙের সম্পর্ক । শব্দের সাথে রেখার । সাদা পাতার ওপর লম্বা একটা আঁকাবাঁকা রেখা টানল অশোক । তারপর বলল , নদী । শব্দটা ম্যাজিকের মত কাজ করল । সঙ্গে সঙ্গে খাতার ওপর ঝুঁকে পড়ল দুর্গা । লাল পেন্সিলটা দিয়ে আরো একটা ঐরকমই লম্বা রেখা টানল ।
অশোক বলল - আবার আঁকো । বলা মাত্রই আবার একটা রেখা টানল দুর্গা । মজা পেয়ে গেছে । বেশ উপভোগ করছে সে আনন্দ ।
রেবা বলল - দাদা ওদের খাবার সময় হয়ে গেছে । দুর্গা ওঠ ।
অশোক দেখল হলঘরটা প্রায় ফাঁকা । তারা চারজন ছাড়া আর কেউ নেই । জোনাকি তার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে । কি বলবে অশোক এখন সেটা খুব সহজেই আন্দাজ করতে পারে । জোনাকির চোখ কি পড়া যাচ্ছে ? অশোক বলল - রেবা আমরা আবার আসব , দুর্গাকে ছবি আঁকা শেখাব ।
তারা একসঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এল । জোনাকি নির্বাক । বাইরে বাতাস বেশ ভিজে , আবার বৃষ্টি নামতে পারে । হাল্কা মেঘ ডাকছে । অশোক বল , দেরী হয়ে গেল , বাড়িতে আজ ধোলাই আছে , বলে নিজের কথাতে নিজেই খানিকটা হাসল জোনাকি তবু কিছু বলে না । ও কি তখন তৃতীয় মৌর্য্য সম্রাটের কথা ভাবছিল ? কে জানে !
চায়ের কাপটা জানলার ওপর রেখে অশোক বাইরে তাকিয়ে ছিল । কিছু হলদে প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে সেখানে । কাল যদিও অনেক বৃষ্টি হয়েছে এখন আবার টিপ টিপ করে পড়ছে । গাছের পাতাগুলো ধুয়ে মুছে সাফ । চকচক করছে । জানলা দিয়ে মেঘ ঢাকা আলোয় দেখতে পেল অশোক চায়ের কাপে মধ্যে বাগানের পেয়ারা গাছের ছায়া এসে পড়েছে ছায়াটা দেখে কেমন মায়া জাগল একটা । হাতলটা ধরে কাপটাকে একটু নাড়িয়ে দিল পুঁচকে একটা ঢেউ উঠল চায়ে পেয়ারা পাতার ছায়াটা নানা রকম ডিজাইন তৈরী করছে চায়ে আবার ভেঙে যাচ্ছে । চাটা একটু একটু করে খেতে গিয়ে দেখল কাপ থেকে পেয়ারা পাতার ছায়া লোপাট হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ । দুর্গার আঁকা  ছবিটার  কথা  ভাবল  সে । কোন স্মৃতি কি লুকিয়ে আছে সেখানে ? পুরোন অথচ ভয়ংকর সুন্দর । একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল বুক থেকে তার ।
কাল বিকেলে হোমে যাবার সময় যথারীতি জোনাকি বাচ্ছাদের জন্য কেক বিস্কুট কিনেছিল । তাকে কখনও কিছু কিনতে হয়নি । এমনকি মোমবাতি দুটোও জোনাকিই কিনল । তার কাজ পাশে থাকা , সে তাই করেছে । কাল তবে সে একফাঁকে চকলেট কিনে আনতে যাবে বলে ভেবেছিল কিন্তু জোনাকির সঙ্গে থাকলে পুরনো সেই অস্বস্তিটা তাকে এমন কাবু করে রাখে যে অন্য কিছু করবার সুযোগই ঘটে না ।
আজ আবার তারা দুজন  হোমে গেল । একটু আগেআগে , হাতে সময় নিয়ে । অশোকের কেমন জেদ চেপে গেছে , দুর্গাকে ও ছবি আঁকা শেখাবেই । হোমের সিস্টার তাদের চিনে ফেলেছে । উনি ওদের দেখে - মাই সু্ইট কাপল্ , গুড ইভিনিং , বলে অভ্যর্থনা  করলেন । কেউ তারা এখনো পর্যন্ত নিজেদের পদবী বলে নি । দরকারও পড়ে নি ।
আসামাত্রই  রেবা দুর্গার খাতা হাতে নিয়ে দৌড়ে এল বলে - বৌদি দেখো দুর্গা একদিনেই কত ছবি এঁকে ফেলেছে !
সঙ্গে সঙ্গে  খাতার ওপর ঝুঁকে পড়ল দুজনেঅশোক জিজ্ঞাসা করল - দুর্গা কই ?
-      ওর চুল বাঁধা হচ্ছে । হয়ে গেলেই চলে আসবে ।
খাতায় দুর্গা আরো কয়েকটা নদী এঁকেছে । সেইরকমই লম্বা টানা দাগ । তবে নদীর ধারে বাড়ীও এঁকেছে । কাঁচা হাতের আঁকা । জোনাকি বলল - বাড়ীগুলো কেমন না ? 
অশোক বলল - যে কোনদিন  সেভাবে পেন্সিলই ধরে নি সে কেমন বাড়ীর ছবি আঁকবে সে তো জানা কথাই । ওর পক্ষে জানা কি সম্ভব কাকে বলে ছবির সাথে সহবাস, ছবির সাথে ঘুম ! বর্ণ শব্দ সম্পর্ককে জানার আগে ছবির ব্যকরণ ওকি বুঝবে ?
জোনাকি অশোকের কথার জবাব না দিয়ে দুর্গার আঁকাগুলো দেখতে থাকে । বলল - দেখো দেখো, এই ছবিটা কেমন ? পরপর তিনটে আঁকা বাঁকা দাগ । একদম পাশাপাশি । তিনটেই নদী । তাই না ?
-যে প্রথম পেন্সিলে হাত দিচ্ছে , বয়স যার মোটে পাঁচ সাড়ে পাঁচ , তার আঁকিবুকির মধ্যে তুমি মনস্তত্ব খুঁজতে যেও না প্লিজ !
- না খোঁজার কি আছে ? ও নদী এঁকেছে , বাড়ীও এঁকেছে , কিন্তু মানুষ আঁকেনি এটা দেখেছো ?
- ও মানুষ আঁকতে পারবে তোমার বিশ্বাস হয় ?
- যদি ছোট দাগ এঁকে সেগুলোর মাথায় একটা ফুটকি দিয়ে দিত তাহলেই মানুষ হয়ে যেত । মনে হত নদীর পাড় দিয়ে মানুষ হেঁটে যাচ্ছে ।
অশোক চুপ করে থাকে । জোনাকি অন্য একটা ছবি বের করে । তারপর অন্য আর একটা । সব ছবিতেই লাল রঙই বেশি । নীল হলুদ সবুজ থাকলেও লালই বেশি ব্যবহার করা হয়েছে ।
- কেন এত লাল রঙ বলোতো ?
- তুমি বল ।
- রঙ নিয়ে গেন্ডুয়া খেলছে ?
- কেন রক্ত হতে পারে না ?
জোনাকি তর্ক করে - বসন্ত এঁকেছে । পলাশ শিমুল ...
-      দুর্গার ছবিকে বড় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছ । এর মধ্যে বাচ্ছাটার সাইকোলজি খুঁজলে পাবে না । এটা বাড়াবাড়ি । বলেই অশোকের মনে পড়ে যায় সমীর রায়চৌধুরীর লেখা ‘ মেথি শাকের গন্ধ ’ গল্পটা । সমীর যেখানে প্রকাশ কর্মকারের ছবির কথা বলেছেন, সেই ছবিতে লাল রঙ কত বেশি । জ্যেঠিমা পায়রা ওড়া দেখতে পেয়ে খুব খুশি সব প্রকাশের পোষা । একদিন চেয়ে বসলেন একটা । কিন্তু পুষবেন বলে নয় , মাংস খাবেন বলে । মা বললেন , গুরজন চেয়েছেন যখন তখন দিয়ে আয় গিয়ে ।’ কাটতে হল পায়রা । ছবির কালো রঙের ওপর লাল রক্ত ছিটকে এল ।
জোনাকি বলল - এখন লোকে রক্তের বদলে কেচাপ ব্যবহার করে , সিনেমায় ।
-      জীবনটা সিনেমা নয় । তবে সিনেমাতে একটা যুক্তি থাকে । আগে পরে থাকে । কিন্তু জীবন তো হঠাৎই । অকস্মাৎ । শিবের রাগ হলে বাহান্ন পীঠ তৈরী হয় । না হলে শান্ত । গঙ্গোত্রী থেকে নেমে এসে স্বাভাবিক নিয়মে সাগরে গিয়ে পড়া ।
দুর্গা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে । এখানে বাইরের লোকজন বেশিক্ষণ আ্যলাউ করা হয় না তবুও কি এক অলিখিত শর্তে তাদের ক্ষেত্রে সব ছাড় হয়ে যাচ্ছে । হাততালি দিয়ে বলল সে - লাল লাল নদী ...
জোনাকি হাঁ করে ওর কথাগুলো মন দিয়ে শোনবার চেষ্টা করে । অশোক বলে - ও কোন স্পেশাল শব্দ উচ্চারণ করছে না । একটু আগে তুমি যা যা বলেছ , ও সেগুলোই আবার বলছে ।
- তাহলে ও হাততালি দিল কেন ?

- কালকের আনন্দ ওর এখন মনে পড়ে যাচ্ছে । ও বুঝতে পারছে ওকে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি ।

Comments

Popular posts from this blog