১৩। ভালবাসাবাসি......।। গত দুদিন ঝড় বৃষ্টির পর আজ আবার জমিয়ে শীত পড়েছে । পরীক্ষা হয়ে যেতে ইস্তক পুটু সোনা কোথাও যায়নি । একঘেয়ে টিভি দেখে দেখে তার বিরক্ত লাগছে । বন্ধুরাও সব হয় মামার বাড়ি বা পিসীর বাড়ি । অশোক বারকয়েক বলেছে , চল পুরী ঘুরে আসি । কিন্তু তাপু রাজী হয় নি । তার এখন কোথাও যাওয়ার মানসিকতা নেই । গত বছরেই তারা সবাই রাজস্থান ঘুরে এসেছে । ফিরে এসে সবাই পরপর জ্বর সর্দি কাশিতে ভুগল প্রায় দিন পনেরো । ছেলের স্কুল কামাই হল চার দিন , সেই চার দিনের পড়া যোগা ড় করতে তাপুর হিমশিম অবস্থা । অশোকের আর কি ? ও তো ডাক্তার দেখিয়েই খালাশ । তাছাড়া হুট করে চলে গেলেই তো হল না । ঘর সংসার ফেলে তার বেশিদিন বাইরে মন টেকে না । খালি বাড়ি নোংরা ধুলোর আস্তানা হয়ে যায় । আরশোলা টিকটিকি পোকামাকড় সব পরিষ্কার করতে করতে মেজাজ গরম হয়ে যায় তার । আজ সকালে মেঘ কেটে গিয়ে রোদ ওঠার পর পুটু সোনা সগৌরবে ঘোষণা করল , বাবা আমি মামার বাড়ি যাব । সঙ্গে সঙ্গে তাপু বলল , তাই চল্, কিন্তু তুই একাই যাবি । - কেন তুমি কেন যাবে না মা ? - আমি কি তেমন কপাল করে এসেছি মা ? তুমি যাও । মামা খুশী হবে । অশোক সবই বুঝতে ...
Popular posts from this blog
৭ । প্রেম এবং গল্প ......... ।। তাপু খবরের কাগজ পড়ছিল । কাগজে হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে লেখা । সে পড়ছিল প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে মতান্তর হয়েছে ওনার । পড়ল তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী শাওন সম্পর্কে । পড়ল , ‘ খুব কষ্ট হয় । জীবনে যা চেয়েছি তার অনেকটাই পেয়েছি । এই চাইতে গিয়ে কত কিছু যে হারাতে হয়েছে ! আমৃত্যু এই কাঁটা বিঁধতে থাকে । ’ এই হারানোগুলো অবশ্যই প্রথম জীবনের। যা হারিয়ে যায় তা অতীত। সে মনে মনে অশোককে বলে তুমি একটা পেতে চাইলে আর একটা তোমায় হারাতে হবে । জীবন এইরকমই । খুব ছোট্ট তার আশা । সুখী সংসারের বাইরে আর অন্য কিছু নয় । একটা সম্পর্কের জ া লে জড়িয়ে গেলে অন্যটা নিজে থেকেই শুকিয়ে যাবে । তার কান্না পায় । ভাবে এর সমাধান কি ? কাউকে সে একথা বলতে পারে না । বুড়ো বাবাকে বললে তিনি মারা যেতে পারেন । দু বছর আগে একটা স্ট্রোক হয়ে গেছে , এখন এক টা দিক প্যারালিসিস । মেয়ের জীবনের এতটা চাপ নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় । তাপু ভাবল ব্যাপারট া অশোকের দিদিকে জানাবে । বলবে , তুমি ছাড়া আর কাকে বলব ? সারাদিন প্রায় একাই বাড়ীতে থাকি । অফিসের চাপ ওর সবসময় , কথা বলার এমনিতেই সময় নেই । এখন আবার এই অবস্থা । ...
৬। খোঁজ .......... ।। দুপুরে বসেবসে জোনাকি খুব একঘেয়ে বোধ করছিল । বর পাশের ঘরে ঘুমোচ্ছে । মেয়ে নিজের মত কম্পিউটারে ফেসবুক করছে । এই সময় কেউই তাকে পছন্দ করে না । রোজ দুপুরে সেও ঘন্টা খানেক ঘুমোয় । কিন্তু আজ ঘুম উধাও । কম্পিউটারের কি বোর্ডের শব্দে কিছুটা নিঃসঙ্গতা কাটে কিন্তু আর একটু পরে মেয়ে টিউশন ক্লাশে চলে যাবে । তখন আর কোন শব্দই থাকবে না । একমাত্র ভরসা দূরে মাঠের ওপারে সেই উঁচু চিমনিটা । কয়েকটা বড় গাছ , আর কিছু না । সে মেয়েকে বলে , তোরা কি করে ফেসবুক করিস আমাকে শিখিয়ে দে তো ! আমি দেখব । - তোমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে নাকি ? - হ্যাঁ । অশোক আঙ্কেলকে বলেছিলাম , অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছে । - বেশ । তোমার পাশওয়ার্ড বল । - পাশওয়ার্ড ? ওসব জানি না । - আঙ্কেলকে জিজ্ঞাসা করো । নাহলে খোলা যাবে না । সে ঘড়ি দেখল । দুপুর আড়াইটে । এইসময় ফোন করলে অশোক কি বিরক্ত হবে ? এখন কোথায় আছে তাও জানা নেই । তবু সে ফোন করল । বলা মাত্রই পাশওয়ার্ড বলে দিল অশোক । উলটে হাল্কা প্রশ্ন করল - অ্যাকাউন্ট তো সেই কবে খোলা হয়েছে , এর মাঝে আর দেখেন নি নাকি ? বেমালুম মিথ্যে কথা বলে দেয়...

Comments
Post a Comment